
চট্টগ্রামের সিটি গেইট থেকে নিমতলা বিশ্বরোড: চলন্ত লরি থেকে স্ক্র্যাপ চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কে পথচারী-চালক
পারভেজ বাঙালী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেইট থেকে বন্দর নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কটি বন্দরমুখী পণ্যবাহী যানবাহনের অন্যতম ব্যস্ত রুট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বিভিন্ন অংশে সংঘবদ্ধ চুরি, ছিনতাই, স্ক্র্যাপ লুট এবং প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন চালক, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিশেষ করে হালিশহর নয়াবাজার, বড়পোল, মুনসুর মার্কেট, নিমতলা খালপাড় ও তালতলা এলাকায় একদল কিশোর-তরুণ ও পেশাদার ছিনতাইকারী প্রকাশ্যেই বন্দরগামী স্ক্র্যাপবাহী ট্রাক ও লরির পিছু নেয়। সুযোগ বুঝে চলন্ত গাড়ি থেকে ভারী লোহার স্ক্র্যাপ নিচে ফেলে দেয়। এতে একদিকে মূল্যবান মালামাল চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে নিচে পড়া ভারী লোহায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
একাধিক ট্রাকচালকের দাবি, স্ক্র্যাপ চুরি ঠেকাতে গেলে চালক ও সহকারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। অনেকেই প্রাণভয়ে বাধা দিতে সাহস পান না।
'বারবার ধরেও লাভ হয়নি'
একজন পথচারী গণমাধ্যমকে বলেন,
"দিনের বেলায়ই এসব ঘটনা ঘটছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। কখন কোথা থেকে ভারী লোহা পড়বে, বলা যায় না।"
একজন পণ্যবাহী ট্রাকচালক বলেন,
"আমরা অনেকবার এসব লোককে ধরে প্রশাসনের হাতে দিতে চেয়েছি। কিন্তু তেমন ফল পাইনি। এতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমরা নিরাপদে পণ্য পরিবহন করতে চাই।"
তবে চালকদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদকসেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়পোল মোড়সহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে কিছু তরুণ-তরুণী প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সেবন করেন। পরে তাদের একটি অংশ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। তবে এ অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ কী বলছে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
«"এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার নজরে আসেনি এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগও করেননি। তবে অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"»
অন্যদিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঠোফোনে বলেন,
«"নিমতলা থেকে বড়পোল পর্যন্ত আমাদের পেট্রোল টিম ২৪ ঘণ্টা টহলে থাকে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"»
প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে
বন্দরকেন্দ্রিক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যদি নিয়মিত টহল থাকে, তাহলে চলন্ত ট্রাক থেকে স্ক্র্যাপ চুরি, ছিনতাই ও প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগ কেন বারবার উঠছে—এ প্রশ্ন এখন চালক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু টহল বাড়ালেই হবে না; সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান, সিসিটিভি নজরদারি, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বন্দরমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে জানমাল ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।